পদুয়াবাজার ট্র্যাজেডি: তদন্তে ১০ জনের গাফিলতি চিহ্নিত, আট দফা সুপারিশ

কুমিল্লার পদুয়াবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ১২ জন নিহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্রতিবেদনে পদুয়াবাজার ও বিজয়পুর লেভেল ক্রসিংয়ের ছয় জন গেটম্যান, লালমাইয়ের স্টেশনমাস্টার, ট্রেনের দুইজন লোকোমাস্টার এবং বাসচালকের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক বিভাগের নির্মাণকাজের ত্রুটিও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটির প্রধান ও কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী জেলা প্রশাসকের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন।

তদন্ত কমিটি মোট ছয়টি বিষয়ে নিয়মের ব্যত্যয় খুঁজে পেয়েছে। এডিএম জাফর সাদিক চৌধুরী জানান, তদন্তের স্বার্থে স্টেশনমাস্টার ও গেটম্যানদের মোবাইল কল লিস্ট যাচাই করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেনের লোকোমাস্টাররা রাস্তার সিগন্যাল যথাযথভাবে খেয়াল করলে গতি কমিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে পারতেন। 

অন্যদিকে, বাসচালক রেলওয়ের ওভারপাস ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়েছিলেন। মোট ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে যাদের দায়ি করা হয়েছে তারা হলেন- পদুয়াবাজার লেভেল ক্রসিংয়ের চারজন গেটম্যান, বিজয়পুর লেভেল ক্রসিংয়ের দুইজন গেটম্যান, লালমাই রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার, ট্রেনের দুইজন লোকোমাস্টার। এছাড়া বাসচালক ও সড়ক বিভাগের নির্মাণকাজকেও দায়ি করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে আটটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে। 

গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের রাতে ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এই কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। দুর্ঘটনার পর এক বাসযাত্রীর করা মামলায় এ পর্যন্ত তিন গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ও পুলিশ।

কমিটিতে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল মমিন, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন এবং রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা আসিফ খান চৌধুরী।