নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করার কয়েক ঘণ্টার মাথায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পাঁচটি যানবাহন। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালানো হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের এজি মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ভো চারটার দিকে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে এজি মার্কেটের একটি গ্যারেজসহ তিনটি দোকান। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে গ্যারেজে থাকা চারটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেলসহ সব মালামাল ভস্মীভূত হয়। খবর পেয়ে চৌমুহনী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততোক্ষণে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা নয়। গত শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে এলাকার মাদক কারবার ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সভা করেছিলেন। ওই সভায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের ওপরই প্রতিহিংসামূলকভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
আমানউল্যাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তার ওপর আক্রমণ করা হয়। তিনি বলেন, প্রতিবাদ সভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের টার্গেট করেই এই আগুন দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত এলাকায় এমন ১২টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে ব্যাংক ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে অটোরিকশাগুলো কিনেছিলেন। উপার্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম সুমন জানান, একটি চক্র এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
চৌমুহনী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, ভোর পাঁচটার দিকে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের ধরনটিকে তিনি ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ঘটনার পেছনে কোনো নাশকতামূলক পরিকল্পনা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।