​অদিতা হত্যার রায় পেছালো, খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি মায়ের

নোয়াখালীর চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যা মামলার রায়ের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন আদালত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এজলাসে বসে রায়ের এই নতুন তারিখ ঘোষণা করেন। এদিকে রায়ের তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন নিহতের মা রাজিয়া সুলতানা।

বাদিপক্ষের আইনজীবী এমদাদ হোসেন কৈশোর জানান, আজ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু বিচারক রায়ের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করে ২৯ এপ্রিল দিন ঠিক করেছেন। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদিপক্ষের মোট ৪১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার একমাত্র অভিযুক্ত আসামি অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. সেলিম শাহী আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী তারিখে তারা কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাবেন।

আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়ে অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যেন এটি সমাজে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে এবং আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। 

অদিতার বাবা রিয়াজ হোসেন ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় মারা যান। দুই মেয়েকে নিয়ে লক্ষ্মীনারায়ণপুরের বাসায় একাই থাকতেন স্কুলশিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা।

২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় নিজ বাসায় অদিতাকে ধর্ষণের পর গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় তার মা কর্মস্থলে ছিলেন। পুলিশ তদন্ত শেষে জানায়, সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারিগর। রনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন, যেখানে উঠে এসেছে কীভাবে তিনি অদিতাকে হত্যার পর আলমারি তছনছ করে চুরির নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী অদিতাকে হত্যার পর বিচারের দাবিতে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় রাজপথে আন্দোলন করেন। মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধের মাধ্যমে খুনি রনির ফাঁসি দাবি করে আসছিলেন সহপাঠী ও এলাকাবাসী। এখন ২৯ এপ্রিল আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমেই সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।