কক্সবাজারে গহীন বনে মিললো সন্ন্যাসীর ঝলসানো মরদেহ, কারণ খুঁজছে পুলিশ

কক্সবাজারের খুরুশকুলের গহীন বন থেকে নিখোঁজের তিনদিন পর হিন্দু সন্ন্যাসী নয়ন দাশের (নয়ন বিশ্বাস) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) খুরুশকুল পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার গভীর পাহাড়ের ভেতর একটি গাছ থেকে লাল কাপড়ে পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নয়ন দাশের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়। গত দুই বছর ধরে তিনি খুরুশকুলের শ্রী শ্রী সার্বজনীন শিব কালী মন্দিরে ধর্মীয় সাধনায় মগ্ন ছিলেন। মন্দিরের পাশে একটি কুঁড়েঘরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন তিনি।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত ৯টার দিকে কেউ একজন ঘর থেকে ডেকে বের করেন নয়ন দাশকে। তার স্ত্রী অঞ্জনা জানান, ওই রাতে ভাত না খেয়েই এক ব্যক্তির সঙ্গে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর রাতভর আর ফেরেননি। পরদিন সকালে সদর থানায় অভিযোগ দেন অঞ্জনা। নিখোঁজের তিনদিন পর আজ তার মরদেহ পাওয়া গেলো। উদ্ধারের সময় নয়নের পুরো শরীর আগুনে পোড়ানোর মতো ঝলসে যাওয়া অবস্থায় দেখা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান গভীর জঙ্গলে মরদেহ উদ্ধারের স্থানটি পরিদর্শন করেন। তিনি ধারণা করছেন, পরিচিত কেউ নয়নকে ডেকে পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে যায় এবং পরে তাকে গহীন জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। তিনি বলেন, হত্যাকারীর খোঁজ পেলেই হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ধর্মীয় সেবক নয়নের হত্যার কারণ এবং হত্যাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নয়ন দাশ ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও অল্পভাষী মানুষ। লোকজনের সাথে খুব বেশি কথা বলতেন না। এমন একজন মানুষের কোনো শত্রু থাকতে পারে, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না স্থানীয়রা।