নোয়াখালীর নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে মাদক কারবারিদের হামলায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনকারী ও হামলার মূল আসামিকে আটক করেছে।
বুধবার (১০ জুন) রাত ৯টার দিকে জেলার সেনবাগ উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের দেবিসিংহপুর গ্রামের আঞ্জু মিয়াজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কিশোরের নাম আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৫)। সে বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে। ফাহিম স্থানীয় পৌর হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশ শ্রেণির ছাত্র ছিলো। আটক ব্যক্তির নাম হারুন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, আঞ্জু মিয়াজী বাড়ির উঠান ও চলাচলের পথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলো পার্শ্ববর্তী এলাকার হারুন ও তার লোকজন। বুধবার সন্ধ্যায় হারুনসহ কয়েকজন ওই বাড়ির পাশে বসে গাঁজা সেবন করছিলো। এ সময় বাড়ির লোকজন তাদের ধাওয়া দিলে তারা প্রথমে পালিয়ে যায়।
এর জেরে রাত ৯টার দিকে হারুন, মমিন ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একদল যুবক আঞ্জু মিয়াজী বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির লোকজনও লাঠিসোটা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে অন্ধকারের মধ্যে মাদক কারবারির এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে ফাহিম, শাকিব, রিফাত এবং মাদক কারবারি হারুনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে ফাহিম, শাকিব ও রিফাতকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সেনবাগ থানার ডিউটি অফিসার শিমুল জানান, মাদক কারবারিদের হামলায় ওই ছাত্র নিহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে সেনবাগ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে হামলার মূল অভিযুক্ত আহত হারুনকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।