রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের অবসান যেন কিছুতেই হচ্ছে না। এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ হারিয়েছেন শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৫) নামে এক আয়কর আইনজীবী।
সোমবার (২২ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে দীর্ঘ অস্ত্রোপচার করেও শেষ রক্ষা হয়নি; চিরতরে আলো নিভে গেছে তার একটি চোখের। একের পর এক এমন ঘটনার পরও জড়িতরা পার পেয়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—আর কতো চোখ গেলে থামবে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের এই নৃশংসতা?
আহত শ্যামল চন্দ্র দাসের পরিবার জানায়, গত সোমবার সকালে ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় গিয়েছিলেন তিনি। কাজ শেষে ওই দিন রাতেই চট্টগ্রামগামী আন্তনগর ‘তূর্ণা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ট্রেনটি তালশহর স্টেশন অতিক্রম করার সময় রেললাইনের পাশ থেকে হঠাৎ পাথর ছুড়তে থাকে দুর্বৃত্তরা। জানালা দিয়ে ধেয়ে আসা একটি পাথর সরাসরি শ্যামলের ডান চোখে লাগলে তিনি রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।
পরে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠান। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে কয়েক ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসকেরা জানান, আঘাতের তীব্রতায় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, খবর পেয়েই পুলিশ আহত যাত্রী ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। জড়িত দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে রেলওয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
রেলপথে এমন পাথর নিক্ষেপের ঘটনা এই অঞ্চলে এটিই প্রথম নয়। এর মাত্র কয়েক দিন আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের আউটার পৈরতলা এলাকায় আরেকটি চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে নাইমুল হাসান রাব্বি নামের এক যুবক মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে মাথায় পাঁচটি সেলাই দিতে হয়।
নিরাপদ ট্রেন ভ্রমণের জন্য রেললাইনের আশেপাশের এলাকায় দ্রুত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও সাধারণ রেলযাত্রীরা।