কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলের পর থেকে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় জেলার সদর, পেকুয়া, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, রামু, মহেশখালী, টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামছে। তবে অনেক স্থানে লোকালয়ের প্রধান সড়ক থেকে পানি নেমে গেলেও ঘরবাড়ি ও আঙিনায় এখনো তীব্র জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের কারণে সৃষ্ট এই বন্যায় জেলায় এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে ও মাটির নিচে চাপা পড়ে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা দুর্গত মানুষের জন্য সরকারিভাবে যে ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। অনেক এলাকায় এখনো খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট চলছে।
তবে জনপ্রতিনিধিদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, প্রতিটি উপজেলার দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে চাল, শুকনো খাবার ও নগদ টাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।
অপরদিকে, সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে কক্সবাজারের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও নতুন করে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। আবহাওয়া পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের পূর্ববর্তী সতর্ক সঙ্কেত তুলে নিয়েছে।
সমুদ্র ও নদী অববাহিকা শান্ত হওয়ায় কক্সবাজারের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার নৌ রুটগুলোতে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। ঘাটগুলোতে অলস বসে থাকা ট্রলার ও স্পিডবোটগুলো আজ সকাল থেকে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা হতে শুরু করেছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পাহাড়ি নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে চলে এসেছে। তবে সাগরে জোয়ারের সময় পানি নামার গতি কিছুটা ধীর হওয়ায় লোকালয়ের ভেতরের জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।