বিরামপুর ও পরশুরাম সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা

দিনাজপুরের বিরামপুর এবং ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত দিয়ে ১৬ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরালো বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়েছে। পরে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর দুটি সীমান্তেই বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় সীমান্তের ঘাসুড়িয়া বিওপির ২৯১ নম্বর পিলারের ২০-এস এলাকায় এবং ফেনীর পরশুরাম উপজেলার শ্রীপুর বিওপির দুর্গাপুর সীমান্তে আলাদা এ দুটি ঘটনা ঘটে।

হিলি থেকে সংবাদদাতা জানান, ভোরে ভারতের শ্রীরামপুর এলাকার দিক থেকে ৯ জন নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। এ সময় সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেন। বিজিবির সঙ্কেতে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও ঘটনাস্থলে ছুটে এসে একত্রিত হন। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে পড়ে ওই নারীদের পুনরায় ফেরত নিয়ে যায় বিএসএফ।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর, সকাল সাড় সাতটার দিকে সীমান্তের ওপারে বিএসএফের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেলে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কাটলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শুকুর আলী বলেন, ভোরে বিএসএফ ৯ জন নারীকে জোর করে পাঠানোর চেষ্টা করেছিরো। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়। 

ঘাসুড়িয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার টি. আলম জানান, সীমান্ত দিয়ে কোনো নাগরিক যেন অবৈধভাবে ঢুকতে না পারে, সে জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে ফেনী প্রতিনিধি জানান, পরশুরামের দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ছয়জন নারী ও এক শিশুসহ মোট সাতজনকে পুশইনের চেষ্টা করে ৪৩ রাজনগর বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল। বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তীব্র বাধা দিলে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।

ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্ত সুরক্ষা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।