লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভায় পানি সরবরাহ লাইনের খননকাজ চলাকালে মাটির নিচ থেকে রেকট লঞ্চর সদৃশ তিনটি ধাতব বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে পুলিশ। বস্তুগুলো পরীক্ষার জন্য সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলকে খবর দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার এ এস এম আব্দুর রব সরকারি কলেজের পেছনে সমবায় টিএনটি সড়ক এলাকায় পৌরসভার সুপেয় পানির পাইপলাইনের জন্য মাটি খননের সময় বস্তুগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের আশপাশে সাধারণ মানুষকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় না করার আহবান জানিয়েছে প্রশাসন।
উদ্ধার হওয়া ধাতব বস্তুগুলো দেখতে রকেট সদৃশ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের ধারণা, এগুলো মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত বা পুরনো কোনো শক্তিশালী বোমা কিংবা স্থলমাইন জাতীয় বিস্ফোরক হতে পারে। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা জানান, সকালের দিকে শ্রমিকেরা মাটির প্রায় তিন থেকে চার ফুট গভীরে তিনটি ভারী ও সন্দেহজনক ধাতব বস্তু দেখতে পান। বস্তুগুলোর গঠন রকেটের মতো মনে হওয়ায় শ্রমিকেরা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে দেন এবং স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। মাটির নিচে বোমা পাওয়ার খবর চাউর হলে আশপাশের বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জমা হতে শুরু করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রামগতি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি সুরক্ষার আওতায় নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো সত্যিই বিস্ফোরক কি না এবং কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা পরীক্ষা করতে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞ দলকে জানানো হয়েছে। সেনাসদস্যদের মতামত ও পরীক্ষার পরই বস্তুগুলোর সঠিক প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। সেনাবাহিনীর টিম না আসা পর্যন্ত জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই স্থানটি পুরোপুরি কর্ডন করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।