পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বছরে ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবির মুখে চরম নিরাপত্তাঙ্কায় চার দিন ধরে বান্দরবান–থানচি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। চাঁদা না দিলে যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের অপহরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের হুমকির মুখে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে এ রুটে গণপরিবহন বন্ধ রেখেছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ের পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা।
পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ বান্দরবান–থানচি সড়ক। পর্যটন খাতের প্রসার, নিত্যদিনের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য এই রুটের গণপরিবহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবহন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বান্দরবান–থানচি সড়কে চলাচলকারী বাস মালিক সমিতির কাছে জেএসএসের (জনসংহতি সমিতি) নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বছরে ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চাঁদার টাকা না দিলে চলন্ত বাস থামিয়ে যাত্রী, চালক ও সহকারীদের অপহরণ এবং বাসে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত বৃহস্পতিবার থেকে এই সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় মালিক সমিতি।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটনকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। থানচিমুখী পর্যটক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প উপায়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ও ভোগান্ত পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বাস চলাচল থমকে থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে বড়ো ধরনের ধসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
যোগাযোগ ও নিরাপত্তার সার্বিক বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি আপনারা যেরকম জানেন, আমিও সেরকম জানি। দেখি কী করা যায়।
এ পরিস্থিতিতে চাঁদা দাবির ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, সড়কটিতে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের নিরাপত্তাবেষ্টনী জোরদার করা এবং দ্রুততম সময়ে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।