চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক ভয়াবহ লরিচাপায় শিশু ও নারীসহ অন্তত পাঁচজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত আটজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন; যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সোমবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে মা ও ছেলের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তাঁরা হলেন- নেত্রকোণার মদন শিবাশ্রম এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা (৪০) এবং তাঁর ৮ বছরের শিশুপুত্র রাকিব। তাৎক্ষণিকভাবে বাকি তিন নিহত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ঢাকামুখী যাত্রীবাহী একটি বাস যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মহাসড়কের পাশে দাঁড় করায় চালক। বাসটি মেরামতের কাজ চলাকালীন সময়ে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা নিচে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকামুখী দ্রুতগামী একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ ওই যাত্রীদের ওপর সজোরে উঠে যায়।
লরির বেপরোয়া চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দু'জন মারা গেলে নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়ায়।
কুমিরা ফায়ার স্টেশনের উদ্ধারকর্মী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের সময় যাত্রীরা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় লরিটি তাদের চাপা দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। ঘাতক লরিটিকে শনাক্ত ও চালককে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।