ধর্ষণ মামলা করার পর এবার বড় মনিরের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ তুলেছেন এক নারী। নিজের ও তার নবজাতকের জীবনের নিরাপত্তাও চেয়েছেন ওই নারী। গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব ও শহর আওয়ামী লীগের নেতা। তিনি টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ছোট মনিরের বড় ভাই।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে বড় মনিরের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনেন মির্জা তাসনিম আফরোজ এশা নামের ওই নারী। এর আগে গত এপ্রিলে কড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন তিনি।
তাসনিম আফরোজ এশা বলেন, ধর্ষণের মামলা করার পর থেকেই তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এশা একটি শিশুকে নিয়ে আসেন, যার পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করতে বড় মনিরের ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কিন্তু বড় মনির প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে অভিযোগ করেন তিনি বলেন, ‘বড় মনির প্রভাব খাটিয়ে এই ডিএনএ রিপোর্ট পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন বলে আমার আশঙ্কা।’
তাসনিম আফরোজ এশা বলেন, বড় মনির প্রভাব খাটিয়ে ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন যেন পাল্টে ফেলতে না পারেন সেটাই চান তিনি। একইসঙ্গে সন্তানের অধিকার, স্বাভাবিক জীবন যাপনের নিশ্চয়তা চান তিনি।
গত এপ্রিল মাসে বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন এশা। টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়ের করা মামলায় বড় মনিরের স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়।
ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করে বলা হয়, ওই কিশোরীর ভাইয়ের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই কথা বড় মনিরকে জানানোর পর তিনি সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
‘গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর শহরের আদালত পাড়ায় বড় মনির নিজের বাড়ির পাশে একটি ১০ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় যেতে বলেন তাকে। সেখানে যাওয়ার পর তাকে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয়া হয় এবং এতে রাজি না হওয়ায় তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা তাকে আটকে রাখার পর বড় মনির কক্ষে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।’
অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্ষণ শেষে এই ঘটনা প্রকাশ করতে নিষেধ করেন বড় মনির। প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তারপর প্রতিনিয়ত তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। প্রথমবার ধর্ষণের সময় তোলা ছবি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত তাকে ধর্ষণও করা হয়।