টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন এক কিশোরী।
বুধবার রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়ের করা মামলায় বড় মনিরের স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়েছে। বড় মনির টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই এবং টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে। এই বোর্ড ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করবে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বড় মনির তাদের আত্মীয় এবং পূর্ব পরিচিত। হোয়াটসঅ্যাপে তাদের কথা হতো। ওই কিশোরীর ভাইয়ের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিলো। ওই কথা বড় মনিরকে জানানোর পর তিনি সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর শহরের আদালত পাড়ায় বড় মনির নিজের বাড়ির পাশে একটি ১০ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় যেতে বলেন তাকে। সেখানে যাওয়ার পর তাকে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয়া হয় এবং এতে রাজি না হওয়ায় তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা তাকে আটকে রাখার পর বড় মনির কক্ষে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্ষণ শেষে এই ঘটনা প্রকাশ করতে নিষেধ করেন বড় মনির। প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তারপর প্রতিনিয়ত তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। প্রথমবার ধর্ষণের সময় তোলা ছবি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত তাকে ধর্ষণও করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই কিশোরী। এ কথা বড় মনিরকে জানালে তাকে গর্ভপাতের জন্য ক্রমাগত চাপ ও হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ রাত আটটার দিকে বড় মনির আদালত পাড়ায় তার শ্বশুরবাড়িতে তুলে নিয়ে যান ভুক্তভোগী কিশোরীকে। সেখানে গর্ভপাতের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং রাজি না হওয়ায় ওই বাসায় এক কক্ষে তাকে তালাবন্ধ করে রাখা হয়। পরে তাকে সেখানে আবার ধর্ষণ করা হয় এবং ধর্ষণের পর বড় মনিরের স্ত্রী তাকে মারপিট করেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত তিনটার দিকে তাকে বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: পদ্মায় দেড় টনের বেশি জাটকাসহ সাত জেলে আটক
এরপর থেকে ওই কিশোরীকে নানা হুমকি দেয়া হচ্ছিল। শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় মামলা করতে দেরি হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বড় মনিরের মোবাইলে ফোন করা হলে বন্ধ পাওয়া গেছে।
একাত্তর/জো
