বিএনপি-জামায়াতের ঢাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের দ্বিতীয় দিনে গাজীপুরে দুটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুন দেওয়া বাসগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি পার্কিং করা এবং অন্যটি চলন্ত। তবে আলাদা দুটি ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, রোববার দিবাগত রাতে গাজীপুর জেলা শহরের বিলাসপুর বটতলা এলাকায় সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা নিরাপদ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর রকিবুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।
অন্যদিকে মঙ্গলবার ভোরে ভোরে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বাসটি সফিপুর এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত ওই গাড়িতে কয়েকজন যুবক দৌড়ে উঠে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
কালিয়াকৈরে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রায়হান বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। তবে আগুন নেভাতে নেভাতে গাড়ির ভেতরের এবং সামনের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়।
এদিকে ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অল্প কিছু দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে। তবে আন্তঃজেলা বাস, হালকা যানবাহন চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে গন্তব্যে পাড়ি দিচ্ছেন। সড়ক মহাসড়কে বেড়েছে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি।
এদিকে বিএনপির অবরোধের প্রথমদিন রোববার সন্ধ্যার পর রাজধানীতে অন্তত দুই বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন জানান, বাংলামোটর মোড়ে শাহবাগগামী সড়কে পুলিশ বক্সের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী-মিরপুর রুটে চলাচলকারী শিকড় পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। পল্লবীর সেতারা কনভেনশন সেন্টারে সামনে ওই বাসে আগুন দুর্বৃত্তরা আগুন দেয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
এর আগে বিকেলে মিরপুর এক নম্বর সেকশনের বাঙলা কলেজের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
এর আগে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রোববার সকাল ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অবরোধের আগের রাতে ১২টি স্থান থেকে আগুনের সংবাদ পাওয়া গেছে। ঢাকা শহরে সাতটি, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর দুটি, সিরাজগঞ্জে একটি, বরিশালের চরফ্যাশনে একটি, রংপুরের পীরগঞ্জে একটি ঘটনা ঘটে।
ঢাকাসহ সারাদেশে ৯টি বাসে আগুন, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাদলপুরে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে আগুন এবং একটি জায়গায় গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ারে আগুন দেওয়া হয়েছে।
প্রথম দফায় বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিন দিনের সর্বাত্মক অবরোধ চলাকালীন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ৩১টি যানে আগুন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৮টি বাস, চারটি কাভার্ড ভ্যান, পাঁচটি ট্রাক, একটি প্রাইভেটকার, তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন জানান, বাংলামোটর মোড়ে শাহবাগগামী সড়কে পুলিশ বক্সের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
এর আগে গত সপ্তাহের শেষ তিন দিন (৩১ অক্টোবর-২ নভেম্বর) টানা অবরোধ পালন করে বিএনপি-জামায়াত। তার আগে ২৯ অক্টোবর হরতাল পালন করে তারা।
বিপনী বিতান, দোকান পাট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। এছাড়া ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। চন্দ্রা ,চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস সড়কসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে টহলে রয়েছে র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।