ভোটের আগে রাজনৈতিক কর্মসূচির বিধিনিষেধের পরও বিএনপির হরতাল-অবরোধে আগুনের ঘটনা নিয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি ‘উষ্মা’ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমান।
মঙ্গলবার বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কঠোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ১৮ তারিখ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি চলবে না। আমরা মেনে নিয়েছি। তাহলে রাস্তায় আগুন কেন? এ দায়িত্ব তো আমার না, আগুন বন্ধ করা, সন্ত্রাসী ধরা। প্রশাসনকে আরো সক্রিয় হতে হবে না হলে প্রশাসনের প্রতি মানুষ আস্থা হারাবে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা হারাবে। তাদেরকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
রাজধানীতে ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে আলোচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি নির্বাচনে কোনো অনুভূতি পাচ্ছিনা, মানুষ নামের জানোয়ারগুলি ট্রেনের মধ্যে আগুন দিয়েছে এ বিষয়ে আল্লাহর কাছে বিচার চাই। বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিএনপি- জামায়াত সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।
তিনি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করবো বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু এই ঘটনা দেখার পর চাপা কষ্ট অনুভব করছি। ওখানে আমার মেয়ে, বোন থাকতে পারতো। এটা কী রাজনীতি? একজন পুলিশকে চাপাতি দিয়ে কোপালো। এটা কোন রাজনীতি?’
শামীম ওসমান বলেন, আওয়ামী লীগকে দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই, আওয়ামী লীগের মাটি অত্যন্ত শক্ত। আমাদের নেত্রী ধৈর্য ধরার শিক্সা দিয়েছেন। আমরা ধৈর্য ধরেছি। আমাদের সাথে জনগণ আছে। জনগণ যদি একবার ক্ষেপে যায় এবং আমাদের যদি নির্দেশনা দেয়- যারা ট্রেনের মধ্যে মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারছে, নারায়ণগঞ্জে বাসে-ট্রাকে আগুন দিচ্ছে তাদে;র ধরতে হবে। তাহলে তারা পাঁচ মিনিটও টিকে থাকতে পারবে না। কিন্তু এই কাজটি আমরা করতে চাই না।
‘এটা প্রশাসনের দায়িত্ব, রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব এখানে কোন গাফিলতি হলে নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। নির্বাচন কমিশন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয় বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আমাদের দ্বারা আমরা কোন অবস্থাতেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেব না।’
শামীম ওসমান বলেন, চ্যালেঞ্জ করে বলছি যদি বেঁচে থাকি প্রশাসনের কোনো দরকার নেই আমরা নিজেরাই ১০০ তে ১০০ শতাংশ ফ্রি, ফেয়ার ইলেকশন করবো। জনগণ যাকে ভোট দেয় তাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেবো।