মানিকগঞ্জে রাসেল ভাইপার আতঙ্ক, তিন মাসে পাঁচ মৃত্যু

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীর ও চরে বাস করা মানুষের মধ্যে রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপের আতঙ্কে জেঁকে বসেছে। কৃষক জমির ফসলসহ গবাদি পশুর খাবার সংগ্রহ করতেও ভয় পাচ্ছেন। একের পর এক বিষধর সাপটির দেখা মিলছে উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায়। ইতিমধ্যে চরাঞ্চলে এই সাপের কামড়ে তিন মাসে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গেছে। 

স্থানীয়রা জানান, হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর সংলগ্ন জেগে ওঠা কাঞ্চনপুর ও ফরিদপুর সদর উপজেলার চরে সেলিমপুরের শতাধিক কৃষক জমি (বাৎসরিক ভাড়া) চাষ করেন। সেলিমপুরের বেশির ভাগ জমি নদীগর্ভে বিলীন হলে কৃষকেরা ওই চরে ভুট্টা, বাদাম, তিল, আমন ও আউশ ধানের চাষ শুরু করেন। এরি মধ্যে ভুট্টা ঘরে তুলে তিল ও ধানের চাষ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে এক কৃষক তিল কেটে রেখে দেয়। পরে দুপুরে আঁটি বাঁধা সেই তিল তুলতে গিয়ে এর ভেতরে রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পায়। পরে শ্রমিকরা তিল রেখে চলে যায়। এমনকি ভয়ে গরুর ঘাস কাটতেও আসছেন না অনেকে।

শিকারপুরের সাইদুল মোল্লা জানান, তার ধানের আঁটি গাড়িতে তোলার সময় এক শ্রমিক সাপটি দেখ পায়। এছাড়া কয়েকদিন আগে আজিমনগর ইউনিয়নের পশ্চিমচরে আজ্জেম নামের এক কৃষকও এই সাপ দেখতে পান। রাসেল ভাইপার সাপ দেখেছেন শিকারপুরে সাইদুল মোল্লা, রঘুনাথপুরের মুন্নু এবং লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের কাজিকান্দা গ্রামে আকিদুলও। 

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ইউনিয়নে গত মার্চে রাসেল ভাইপার সাপের কামড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলের ফরিদপুর জেলা সংলগ্ন পদ্মার চর এলাকায় কয়েকজনকে রাসেল ভাইপার সাপে দংশন করে। তারা ফরিদপুরে চিকিৎসা নিয়েছেন। পাশের ইউনিয়নের বসন্তপুর এলাকায় একজন ও এনায়েতপুর এলাকায় আব্দুল্লাহ নামের এক যুবককে রাসেল ভাইপার সাপ দংশন করে। একজনের দংশনের জায়গা পচেও গেছে। চরাঞ্চলের আজিমনগর ইউনিয়ন, সুতালড়ি ও লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে পদ্মা পাড়ের লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। কৃষকরাও আতঙ্কে। আমি বিষয়টা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছি।

হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, হরিরামপুরের চরাঞ্চলে রাসেল ভাইপার সাপের উপদ্রবের কথা শুনেছি। এ ব্যাপারে কৃষকদের ধান কাটার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কাজ শুরু করেছি। উপজেলা পরিষদ থেকে প্রথম অবস্থায় চরাঞ্চলে কৃষকদের বিশেষ জুতার (গামবুট) ব্যবস্থা করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।