১২ বছর পার হয়েছে কিন্তু শতভাগ প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি সাভারের চামড়া শিল্প নগরী। ট্যানারির তরল বর্জ্য শতভাগ পরিশোধনের সক্ষমতা নেই সিইটিপির। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো পরিকল্পনা হয়নি এক যুগে। তাই এবারও দূষণের হাত থেকে রেহাই মিলছে না নদী ধলেশ্বরীর।
শিল্প সচিব বলছেন, পরিবেশবান্ধব করতে স্বল্প, মধ্য আর দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আর পরিবেশবিদরা বলছেন, ভুল নীতির কারণে এখন ধলেশ্বরীসহ দূষণ হচ্ছে বংশী, তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদী।
সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্প নগরীর বাইরে রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে বেশকিছু চামড়ার আড়ৎ। এসব আড়দের নেই পরিবেশ ছাড়পত্র কিম্বা শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা চামড়া আড়দের দূষিত পানিতে ছয়লাব সড়ক, বাড়াচ্ছে দূষণ। বছর খানেক আগে উচ্ছেদের ঘোষণা দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
ঈদের দিন থেকেই চামড়া শিল্প নগরীতে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এতো চামড়া প্রক্রিয়ায় যে পরিমাণ তরল বর্জ্য উৎপাদন হবে তার পরিশোধন করার সক্ষমতা নেই সিইটিপির। কাজেই দূষিত পানি সরাসরি ফেলা হচ্ছে ধলেশ্বরীতে। শুধু তাই নয়, ক্ষতিকর রাসায়নিক ক্রোমিয়াম আলাদা করারও শতভাগ ব্যবস্থা নেই।
এদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নেই আধুনিক চামড়া শিল্প নগরীতে। মিনি ট্রাক আর ভটভটি দিয়ে ক্ষতিকর এই ভারী বস্তু ফেলা হচ্ছে ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সিইটিপির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। তবে রাতারাতি পরিবেশবান্ধব সম্ভব নয়। সিইটিপির যে মডিউলগুলোর সবগুলোকেই ওভার রোলিং করা হয়েছে। যে ব্যাকটেরিয়াগুলো লাইভ ছিল না, সেগুলোকে আমরা লাইভ করেছি। প্লানিংগুলো করা হয়েছিল, সেই অনুযায়ী কাজ চলছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের ভুল নকশার খেসারত দিতে হচ্ছে। সাভারসহ পশ্চিম অংশের পুরো অংশ দূষণ করছে এই ট্যানারি।
পরিবেশ ও নদী গবেষক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, যে সিইটিপি আছে সেটি হলো লিকুইড ওয়েস্টকে ম্যানেজ করার। কিন্তু ট্যানারি থেকে প্রচুর সলিড ওয়েস্ট তৈরি হয়, যেগুলো আরও বেশি কেমিক্যাল যুক্ত। এটা পরিবেশে ও মানুষের জন্য আরও অনেক বেশি ক্ষতিকর। এগুলো আগের সেই ডিজাইনে তখনও ছিল না, এখনও নেই।
দূষণ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে ২০২১ সালে চামড়া শিল্প নগরী বন্ধ করে দেয়ার সুপারিশ করেছিলো সংসদীয় কমিটি। তারপরও পরিবেশবান্ধব হয়ে ওঠেনি নগরীটি।
সময় যতো যাচ্ছে সাভারের ট্যানারি শিল্পটি ততো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে। ট্যানারি শিল্পের বাইরে বেশ কিছু চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার গদি তৈরি হয়েছে। যারা প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করছে। পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর, শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকসহ যাদের দায়িত্ব রয়েছে তাদের যেন কোনো মাথাব্যথাই নেই। তাই প্রতিনিয়ত এই এলাকার পরিবেশ যেমন দূষণ হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও।