মানিকগঞ্জে খ্যাপাটে কুকুরে উপদ্রব বেড়েছে। কুকুরগুলো কামড়ে একদিনে আহত হয়েছেন শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষসহ অন্তত ৬০ জন। তারা জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়েছেন।
রোববার সকাল সাতটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা শহরের কয়েকটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তার মধ্যে বেশি আহত হয়েছেন পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের সেওতা এলাকার মানুষ।
সরজমিন, মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কুকুরের কামড়ে কারও হাত, আবার কারও পাঁয়ে ক্ষত দেখা গেছে। ব্যথায় কাতরাচ্ছেন আহতরা।
উত্তর সেওতা এলাকার কবরস্থানের পরিচ্ছন্ন কর্মী ঘটু মিয়ার বলেন, বেলা ১০টার দিকে কবরস্থান পরিষ্কার করার সময় একটি কুকুর এসে আমার পায়ে কামড় দেয়। পরে দুই হাত দিয়ে কুকুরের মুখ ধরে টেনে ছাড়িয়ে নিলেও পরে কুকুর আবার হাঁতে কামড় দিয়ে মাংস ছিড়ে নিয়ে যায়।
৬৫ বছরের সালেহা বেগম জানান, সেওতা এলাকায় রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি কুকুরপাঁয়ে কামড় দিয়ে মাংস ছিড়ে নেয়। পরে আশপাশের লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
এভাবে কুকুরের আক্রমণে আহত অন্য নারী ও শিশুরা জানায়, ক্ষ্যাপা কুকুরগুলো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দৌড়ে এসে পায়ে কিংবা হাতে কামড় দিয়ে মাংস ছিড়ে নিয়েছে।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ বলেন, সকালে আমার ওয়ার্ডের দক্ষিণ সেওতা, উত্তর সেওতা, পশ্চিম সেওতা এলাকায় নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধসহ প্রায় ৪০ জনকে কুকুর কামড়েছে। তার দাবি, ওই কুকুরগুলো পাগল।
তিনি বলেন, সম্প্রতি এলাকায় পাগলা কুকুরের আনাগোনা বেড়েছে। ভয়ে অনেকেই এখন রাস্তায় বের হতে সাহস পাচ্ছে না।
সেওতা এলাকা ছাড়াও মানরা, গিলন্ড, ভাটবাউর, পৌলী, বান্দুটিয়াসহ আরও বেশ কিছু এলাকায় ‘পাগলা কুকুরে’র আনাগোনা বেড়ে গেছে। ওইসব এলাকা থেকেও কুকুরের কামড়ের খবর পাওয়া গেছে।
মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. বাহাউদ্দিন বলেন, আক্রান্তদের ভ্যাকসিন ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালী বলেন, কুকুরের কামড়ে অনেক মানুষজন আহত হওয়ার খবর শুনেছি। ক্ষ্যাপা কুকুর থেকে সতর্কবস্থায় নিরাপদে চলাচলের জন্য মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।