বিএনপি নেতা সোহেলের গ্রাস মুক্ত হলো সুনীলের বাড়ি

মাদারীপুরে এক বিএনপি নেতার গ্রাস থেকে দখলমুক্ত হলো দুই বাংলার জনপ্রিয় প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈত্রিক ভিটা। ওই দুর্বৃত্তকে আটকের দাবি করা হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে তিনি। 

মঙ্গলবার দুপুরে সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা প্রশাসন বাড়িটি উদ্ধার করে। 

অভিযুক্তের নাম সোহেল হাওলাদার। তিনি কালকিনি উপজেলা (বর্তমানে ডাসার উপজেলা) বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক। তার বাড়ি কাজী বাকাই ইউনিয়নের পাথুরিয়ার পাড় এলাকায়।

সুনীলের বাড়ি দখল করে চালের গুদাম করেছিলেন তিনি। সরিয়ে দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডও। এমনকি ওই বাড়ি থেকে ছবি, বইসহ বিভিন্ন স্মৃতি নষ্ট ও ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাদারীপুরের ডাসার (কালকিনি) উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামের সুনীলের পৈত্রিক ভিটা দখল করেন সোহেল হাওলাদার। এদিন ছিল এই সাহিত্যিকের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। সোহেল কাজীবাকাই ইউনিয়নের ওএমএসের ডিলার হওয়ায় সেখানে করেন চালের গুদাম, সরিয়ে দেন সরকারি সাইনবোর্ড। 

খবর প্রশাসনের কানে যায় ঘটনার তিন দিন পর। পরে বাড়িটি দখলমুক্ত করা হয়। এমন ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন জেলার সাংস্কৃতিক কর্মী, সাহিত্যপ্রেমীসহ সাধারণ মানুষ। দেশজুড়েও চলে নিন্দা।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোহেল হাওলাদারকে বহুবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেন নাই। 

Sunil home

১৯৩৪ সালের সাত সেপ্টেম্বর মাদারীপুর মহকুমার রাজৈরের আমগ্রামের মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল। তার পৈতৃক ভিটা পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে। দেশভাগের পর ভারতে চলে গেলেও মাটির টানে তিন বার পৈত্রিকভিটায় ছুটে আসেন তিনি। তার স্মরণে ২০০৪ সালে সুনীল সাহিত্য চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি। ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর কলকাতায় পরলোক গমন করেন খ্যাতিমান এই সাহিত্যিক। 

২০০৪ সালে উদ্বোধন হওয়া সুনীল সাহিত্য চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রটি নির্মাণ হলে অবৈধ দখলদারদের তৎপরতা রোধ সম্ভব বলে দাবি সাংস্কৃতিক কর্মীদের। লেখক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংগঠকরা দোষী ব্যক্তিকে আটকের দাবি জানিয়েছেন।

মাদারীপুরের ডাসারের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাশ সোহেলকে ধরতে অভিযানের কথা জানিয়েছেন।