ফরিদপুরে কিশোর-কিশোরীর বিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, আহত ২৫

কিশোর-কিশোরীদের বিরোধ থেকে ফরিদপুরের সালথায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার সকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মেম্বার গট্টি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে সালথা-ফরিদপুর আঞ্চলিক সড়ক ও আশেপাশের পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের সময় ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মেম্বার গট্টি গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. রফিক মাতুব্বরের সাথে গট্টি ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি মো. আজিজ মোল্যার বিরোধ চলে আসছিলো। এরই মধ্যে শুক্রবার বিকেলে রফিকের সমর্থক নুরুল ইসলামের ছেলের সঙ্গে আজিজের সমর্থক মুকুলের মেয়ের বিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শনিবার সকালে আগের দিনের ঘটনার জেরে রফিকের বাড়ির সামনে সালথা-ফরিদপুর সড়কের ওপর উভয় পক্ষের পাঁচ শতাধিক সমর্থক দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা, টেঁটা, ভেলা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আবার সংঘর্ষে জড়ায়। পরে আশপাশের আরও ১০ গ্রামের মানুষ এতে অংশ নেয়। এ সময় আতঙ্কে স্থানীয় নারী ও শিশুরা অন্যান্য গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেন।

সংঘর্ষের সময় রফিক ও আজিজের বসতবাড়িতে হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

faridpur

শনিবার সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।

এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিক মাতুব্বর ও গট্টি ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি আজিজ মোল্যার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-নগরকান্দা) মো. আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সংঘর্ষকারীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।