পাটুরিয়া ঘাটের সংযোগ সড়ক খাড়া, ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা

ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র সপ্তাহখানেক। অথচ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এখনো জরাজীর্ণ। ঘাটের সংযোগ সড়কগুলো অতিরিক্ত খাড়া থাকায় যানবাহন ওঠানামায় চরম ভোগান্তি হচ্ছে। ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ বাড়লে এই ভোগান্তি আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা।

গত বর্ষায় পদ্মার প্রবল স্রোতে পাটুরিয়ার পাঁচটি ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙনের প্রায় ছয় মাস পার হলেও ঘাটগুলো পুরোপুরি মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে জোড়াতালি দিয়ে পারাপার চলছে। সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ রোডগুলো অতিরিক্ত খাড়া হওয়ায় ফেরি থেকে ওঠার সময় যানবাহনগুলো প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

রোববার (১৫ মার্চ) সরেজমিন, ভুক্তভোগী চালকরা জানান, খাড়া ঢাল বেয়ে উঠতে গিয়ে মাঝেমধ্যে যানবাহনের ব্রেক ফেল হয়ে পন্টুনে বা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। গত বুধবার রাত আটটার দিকে পাঁচ নম্বর ঘাটে ফেরি থেকে নামার সময় একটি তেলবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আবদুস সালাম বলেন, নদীতে পানি কমে যাওয়ায় পন্টুন নিচে নামাতে হয়েছে, ফলে সংযোগ সড়ক খাড়া হয়ে গেছে। এতে ফেরির ট্রিপ সংখ্যাও কমেছে। তবে ঈদ উপলক্ষে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে ১৭টি করা হয়েছে। সড়ক সংস্কারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ-কে একাধিকবার জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার থেকে তিনটি ঘাটে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ঢাল কমানোর কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে সংস্কারকাজের কারণেও বর্তমানে যানবাহন পারাপারে বিলম্ব হচ্ছে। ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ার আগে কাজ শেষ না হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে যাত্রীদের আশঙ্কা।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংযোগ সড়ক সমান করার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে খাড়া সড়ক স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এদিকে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের অবস্থাও নাজুক। গত আগস্টে মূল ঘাটটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর দুই নম্বর ফেরিঘাটের পাশে পন্টুন বসিয়ে কোনোমতে যাত্রী পারাপার চলছে। লঞ্চঘাটে নামার পথটিও অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের ওঠানামায় পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।