মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুত যাচাই করে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতি পেয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে গুদামে ৪১ টন ধান বেশি এবং ছয় হাজার ৫০০টি খালি বস্তা কম পাওয়া গেছে।

খাদ্যশস্য মজুতের এই বড়ো ধরনের গরমিলের ঘটনায় ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে এই তথ্য জানান মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপনে তাদের সাময়িক বরখাস্তের এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত করার স্বার্থে তাদের চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন নয়। তাই তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
খাদ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা খাদ্যগুদামগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালানো অডিট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৫ আগস্ট গঠিত তদন্ত কমিটি ঘিওর সরকারি খাদ্যগুদামে (এলএসডি) সরেজমিন পরিদর্শন করে। পরে বুধবার ঢাকা থেকে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের অডিট দল ও জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা গুদামের দাপ্তরিক নথিপত্র ও হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখেন। এতেই ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম ঘাটতিসহ ধান ও খালি বস্তার ব্যাপক গরমিল উন্মোচিত হয়। অসঙ্গতি পাওয়ার পর পরই গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
