মাদারীপুর মিনি ট্রাক নিয়ে এসে একযোগে আটটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এমসময় ডাকাতদল ছয়টি স্বর্ণের দোকানের তালা ভেঙে সিন্দুকসহ কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার, রুপা ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে ডাকাতদের মারধরে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার হাউসদি বাজারে বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এই ডাকাতির তাণ্ডব চালায় একদল মুখোশধারী ডাকাত।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভোরে একদল মুখোশধারী ডাকাত একটি মিনি ট্রাক নিয়ে হাউসদি বাজারে প্রবেশ করে। বাজারে তখন বিদ্যুৎ ছিলো না। ডাকাতরা প্রথমে প্রিয়াংকা জুয়েলার্স নামের একটি স্বর্ণের দোকানে হানা দেয়। ঘটনা টের পেয়ে পাশের দোকানে থাকা মিলন মোল্লা নামে এক রাজমিস্ত্রি বাধা দিতে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
এরপর ডাকাতদল একে একে আরও পাঁচটি স্বর্ণের দোকানে লুটপাট চালায়। এর মধ্যে দুটি দোকান থেকে স্বর্ণের সিন্দুকই তুলে ট্রাকে করে নিয়ে যায় তারা। স্বর্ণের দোকান ছাড়াও পাশের একটি মুদি ও একটি কসমেটিকস দোকানেও লুটতরাজ চালানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী সদিপ মণ্ডল আক্ষেপ করে বলেন, জীবনের সবটুকু সম্বল দিয়ে এই দোকান চালাতাম। দোকানে সাধারণ মানুষের বন্ধক রাখা অনেক স্বর্ণ ছিলো। এখন আমি তাদের কী জবাব দেবো? এক রাতেই আমি নিঃস্ব হয়ে পথে বসে গেলাম।
বাজারে একযোগে এতগুলো দোকানে এমন চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতরা প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণ, এক হাজার ভরি রুপা এবং নগদ কয়েক লাখ টাকা লুট করেছে। তবে তদন্ত শেষে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জনাকীর্ণ একটি বাজারে ট্রাক নিয়ে এসে এমন বড়ো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত সঠিক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এলাকায় বড়ো ধরনের সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।