বৃষ্টির বাবার আর্তনাদ, ‘কীভাবে কী হয়ে গেলো কিছুই বুঝতে পারছি না’

‘মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো। পড়ালেখায় খুব ভালো ছিলো। কীভাবে কী থেকে কী যে হয়ে গেলো, কিছুই বুঝতে পারছি না’—যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে খুন হওয়া নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন এভাবেই বিলাপ করে নিজের আর্তনাদ প্রকাশ করছিলেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই মাদারীপুরের খোয়াজপুর ইউনিয়নে তার পৈতৃক বাড়িতে শোকাতুর মানুষের ভিড় বাড়ছে।

নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দুপুরের জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির বাবা ঢাকার মিরপুরে বসবাস করলেও প্রতি বছর ঈদের সময় সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। বৃষ্টির বড়ো ভাই একজন প্রকৌশলী এবং বৃষ্টি নিজেও ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

মেয়ের সম্পর্কের বিষয়ে ওঠা বিভিন্ন গুঞ্জনের প্রেক্ষিতে জহির উদ্দিন আকন বলেন, সেখানে বাঙালি কমিউনিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৃষ্টির সুসম্পর্ক ছিলো। তবে লিমন নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বৃষ্টির ঘনিষ্ঠতা থাকলেও তাদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিলো না বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানিয়েছেন, দূতাবাস তথ্য চাইলে স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এদিকে বৃষ্টির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী।

এদিকে রোববার (২৬ এপ্রিল) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের বিচার দাবি করেছেন। নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সরকার যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।