সন্তানকে বিক্রি নয়, ডোবায় ফেলে দেন বাবা: র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

সাত মাস বয়সী শিশু মুজাহিদকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার নাটক সাজিয়েছিলেন বাবা মেরাজ মিয়া (২৫)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; তদন্তে বেরিয়ে এসেছে অভাব বা অন্য কিছু নয়, বরং পারিবারিক কলহের জেরে নিজের সন্তানকে শ্বাসরোধ করে ডোবায় ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মেরাজ মিয়াকে শনিবার (২ মে) দুপুরে ভৈরবের মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪।

গত ১৬ এপ্রিল অভিযুক্ত মেরাজ মিয়া তার শ্বশুরবাড়ি থেকে শিশু তানভীর আহম্মেদ মুজাহিদকে ডাক্তার দেখানোর নাম করে নিয়ে যান। পরে তিনি পরিবারের কাছে দাবি করেন যে, শিশুটিকে তিনি জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর ২৩ এপ্রিল সকালে স্থানীয় একটি ডোবা থেকে শিশুটির পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখনই বেরিয়ে আসে মেরাজের দেওয়া তথ্যের অসারতা।

র‍্যাব-১৪, সিপিসি-২ ভৈরব ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাজাহান জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মেরাজ পলাতক ছিলেন। গোপন খবরে দুপুরে মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেরাজ স্বীকার করেছেন, পারিবারিক কলহের জেরে ক্ষোভ থেকে তিনি তার নিজের সন্তানকে হত্যা করে ডোবায় ফেলে দিয়েছিলেন।

এই ঘটনায় নিহত শিশুর মা তাসলিমা বেগম বাদি হয়ে স্বামী মেরাজকে প্রধান আসামি করে মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তাসলিমা ও তার পরিবার এখন ঘাতক পিতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার মেরাজকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ভৈরব থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।