শরীয়তপুরে চিকিৎসককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে হামলা, ভাঙচুর ও দায়িত্বরত চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় সদরের পালং মডেল থানায় মামলাটি করেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আকরাম এলাহি। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

সদর হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) বুকে ব্যথা নিয়ে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন—এমন অভিযোগ তুলে স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালান। হামলায় দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলাম, আনসার সদস্য সোহেল সরদার, কামরুল, আজিজুল হক ও কাউসার আহত হন। গুরুতর আহত ডা. নাসির ইসলামকে পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি চিকিৎসক নাসির ইসলামকে মারতে মারতে জরুরি বিভাগের কক্ষ থেকে বের করে আনছেন। এ সময় পুরো হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

এই হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ছয় জনের মধ্যে পাঁচজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন—সলেমান কাজী ওরফে আল-আমিন (৩০), জসিম কাজী (৪০), আব্দুল জলিল কাজী (৩২), রবিউল কাজী (৩২) ও জায়েদা বেগম (৬০)।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন বলেন, চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর এ পর্যন্ত ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মিতু আক্তার বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই স্বজনেরা জরুরি বিভাগে হামলা চালায়। এতে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর।

ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। তিনি বলেন, হাসপাতালে হামলা ও চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।