ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে চেয়েছিলেন তছির ফকির (৩৫)। এক বুক আশা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন বিদেশের পথে। কিন্তু লিবিয়ার মাফিয়া ও মানবপাচারকারী চক্রের নির্মম নির্যাতনে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে তার। সর্বস্ব হারিয়ে এখন নিঃস্ব তছিরের পরিবার। তবে এ ব্যাপারে পরিবারটি এখনও প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ করেনি।
নিহত তছির ফকির মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে। দেশে তিনি একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান নিয়ে সংসার চালাতেন। মঙ্গলবার (১২ মে) লিবিয়ায় অবস্থানরত পরিচিতদের মাধ্যমে তছিরের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। তবে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর সত্যতাটি যাচাই করা যায়নি।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় আট মাস আগে পাশের পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের মানবপাচারকারী দালাল রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘার প্রলোভনে পড়ে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন তছির। প্রথমে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে মাফিয়াদের বন্দিশালায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন শুরু করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় আরও ২০ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি।
একপর্যায়ে তছির গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লিবিয়ার একটি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার কথা বলে দালাল চক্র আরও আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের আরও অভিযোগ, মৃত্যুর পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশে দালালেরা লাশটি একটি ‘গেম ঘরে’ নিয়ে যায়।
নিহতের ভাই শাহিন ফকির বলেন, জমিজমা সব বিক্রি করে দালালকে টাকা দিয়েছি। আমরা এখন নিঃস্ব। না পারল আমার ভাই বিদেশ যেতে, না পারছি টাকা ফিরে পেতে। আমরা এই দালাল রফিকের বিচার চাই।
নিহত তছিরের স্ত্রী ইসমোতারা বেগম আহাজারি করে বলেন, তিনটি মেয়েকে রেখে আমার স্বামী চলে গেলো। দালালরা দফায় দফায় নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলেছে। আমি সরকারের কাছে বিচার চাই।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পেলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
