নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। দাবি করা টাকা না দেওয়ায় সিমেন্টবাহী গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর মামলা হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আসামিরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি ও নতুন করে গাড়িপ্রতি ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ মেঘনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর এলাকায় মাহবুবুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল এলাকার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাজ ও যানবাহনে বাধা দিয়ে আসছে। গত ২৭ আগস্ট জৈানপুর এলাকায় ২০০ বস্তা ফ্রেশ সিমেন্ট নিয়ে মেঘনা ইকোনমিক জোনের নির্মাণকাজে যাওয়ার সময় একটি পিকআপ আটকে চাঁদা দাবি করে তারা। টাকা না দেওয়ায় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গাড়িতে হামলা চালায় এবং চালকের কাছ থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকাসহ সিমেন্ট লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পরদিন মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার লিমিটেডের এজিএম (প্রশাসন) আসাদুল ইসলাম বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর প্রধান আসামি মাহবুবুল ইসলাম সুমনসহ সহযোগীরা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন। জামিনে বেরিয়েই তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং মেঘনা গ্রুপের পণ্যবাহী প্রতিটি গাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা না দিলে গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে শুরু করে।
প্রতিষ্ঠানটির ঠিকাদারি প্রতিনিধি আবু সাইদ ও সোপান জানান, কয়েক দফা চাঁদা দেওয়ার পরও নতুন করে এই মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। মামলা করার পর হুমকির মাত্রা আরও বেড়েছে, যার ফলে বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এছাড়া এলাকাবাসীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে জৈনপুর এলাকার ১২ ফুট প্রশস্ত সড়কটি নিজেদের অর্থায়নে ২৫ ফুটে উন্নীত করে আরসিসি ঢালাইয়ের পরিকল্পনা নিয়েছিল মেঘনা গ্রুপ। তবে স্থানীয় এই চক্রটির বাধার কারণে সেই জনকল্যাণমূলক সড়ক নির্মাণকাজও আটকে রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুমনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় ২০০৭ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছিলো এবং তিনি দীর্ঘদিন কারাবাসও করেছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে একটি পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে মাহবুবুল ইসলাম সুমন বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য নয়। প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্বত্বভোগীরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। রাস্তা পুনর্নির্মাণের স্থান পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলাম মাত্র। আর মাদকের মামলা থেকেও আমি খালাস পেয়েছি।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মহম্মদ আবদুল বারিক জানান, আসামিরা জামিনে বের হয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলাটির তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।