‎আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে দম্পতি ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের (ভ্রূণ) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে স্বামীর গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়ায় এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে অর্ধগলিত মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—আলমগীর ও তার স্ত্রী নাজমা (৩৩)। তারা দুজনই দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুরা গ্রামের বাসিন্দা। নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন এবং আলমগীর পেশায় পান বিক্রেতা ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, আলমগীর ও নাজমা সম্প্রতি বাসাটি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। বাসাটিতে তারা সাধারণত দরজা-জানালা বন্ধ করেই রাখতেন। শুক্রবার রাতে তাঁদের কক্ষ থেকে হঠাৎ তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি বুঝতে পেরে আশুলিয়া থানা-পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে ভেতর থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক ভ্রূণের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সুরতহাল করতে গিয়ে আলমগীরের গলায় গামছা পেঁচানো দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় ঘটনাটির পেছনে ভিন্ন রহস্য রয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ফরেনসিক টিম, ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেন।

আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম জানান, বন্ধ ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে—হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কিছু, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে