পদ্মার তীব্র স্রোতে ভেসে গেলো ফেরি, চার ঘণ্টা পর পাটুরিয়ায় উদ্ধার

পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে ভিড়তে না পেরে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে ভেসে গেছে রো-রো ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান’। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে যাওয়ার চার ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজের সাহায্যে ফেরিটিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান। বেলা দুইটার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় ফেরিটিকে পাটুরিয়ায় ফিরিয়ে এনে আনলোড করা সম্ভব হয়।

ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল পৌনে ১০টায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরিটি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার চার নম্বর ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে পদ্মার প্রচণ্ড বাতাসের তোড় ও তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে। এ সময় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে ফেরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘাটে ভিড়তে না পেরে স্রোতের টানে নদীর ভাটির দিকে ভেসে যেতে থাকে। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে যাওয়ার পর ফেরিতে থাকা যাত্রী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর ফেরির দায়িত্বরত কর্মকর্তারা দ্রুত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ঘাট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে বিআইডব্লিউটিসির একটি উদ্ধারকারী আইটি জাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, নদীর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকারী আইটি জাহাজ দিয়ে ভেসে যাওয়া ফেরিটিকে দৌলতদিয়া ঘাটে টেনে আনা সম্ভব হচ্ছিলো না। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে বিকেল চারটার দিকে ফেরিটিকে পুনরায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে নিয়ে আনলোডিং করা হয়। পরবর্তীতে ওই ফেরির যাত্রীদের অন্য একটি ফেরিতে (খানজাহান আলী) তুলে দিয়ে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা হয়েছে।