মানিকগঞ্জে বসতঘরের ভেতর থেকে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও তাদের দেড় বছর বয়সী শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহী জান্নাকান্দি গ্রাম থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—বারাহী জান্নাকান্দি গ্রামের নুর হক ডাক্তারের ছেলে একরাম মোল্লা (৪০), তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তাদের দেড় বছর বয়সী মেয়ে অ্যালিজা।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় একরাম মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে ঘরের মেঝেতে তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মরদেহ পড়ে ছিলো। নিহত মা ও মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, একরাম মোল্লা কিছুদিন আগেই প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছিলেন। শনিবার দুপুরে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ বা পরিবার।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী জানান, প্রাথমিক সুরতহাল দেখে ধারণা করা হচ্ছে, একরাম মোল্লা তার স্ত্রী ও সন্তানকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করার পর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি এখনো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
পুলিশ জানায়, তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক এই ট্র্যাজেডির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।