মা-বাবার মর্মান্তিক বিদায়ের পর চরম অনিশ্চয়তায় পড়া রাজধানীর দোহারের পাঁচ এতিম কন্যার পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারম্যান, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
'এক মাসের ব্যবধানে মা-বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অভাবের সংসারে পাঁচ মেয়ের কী হবে' শিরোনামে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদ নজরে আসার পর, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে উক্ত পরিবারের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে প্রয়াত কৃষক দম্পতি আবুল কালাম আজাদ ও ফরিদা বেগমের বাড়িতে উপস্থিত হন। প্রতিনিধি দলটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং পাঁচ এতিম কন্যার সাথে কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, দল-মত নির্বিশেষে দেশের অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনটি গঠন করেছেন। গণমাধ্যমে এই পরিবারের করুণ পরিণতির খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি তাঁর দৃষ্টিগোচর হয় এবং তিনি অবিলম্বে পরিবারটির পাশে থাকার নির্দেশ দেন। আমরা তাঁর পক্ষ থেকেই সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বার্তা নিয়ে এখানে এসেছি। তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে এমন বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সহায়তা প্রদানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের তীব্র অভাব-অনটন ও ঋণের বোঝার চাপে পড়ে মাত্র ৩১ দিনের ব্যবধানে আত্মহত্যা পথ বেছে নেন কৃষক আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগম। প্রথমে ফরিদা বেগমের মৃত্যুর পর, ঠিক এক মাসের মাথায় নিজ বসতঘর থেকে উদ্ধার করা হয় স্বামী আবুল কালাম আজাদের ঝুলন্ত মরদেহ। মা-বাবাকে হারিয়ে পাঁচ কন্যাসন্তান সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছিল।