গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে মাদক মামলায় আটক এক নারী ও এক পুরুষ আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে রামদা, হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এক রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে এই ন্যক্কারজনক আক্রমণের শিকার হয় পুলিশ ফাঁড়িটি।
মাদক কারবারিদের সহযোগীদের এই হামলায় ফাঁড়িতে কর্মরত টিএসআই নুরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আশিক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের দক্ষিণ পাশে মাদক বিক্রির খবর পেয়ে স্টেশনে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীরা এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। সেখান থেকে বিপুল মাদকদ্রব্যসহ এক নারী ও এক পুরুষ কারবারিকে হাতেনাতে আটক করে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়।
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে মাদক কারবারিদের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র অবস্থায় ফাঁড়িতে চড়াও হয়। রামদা, চাপাতি ও হাসুয়াসহ দেশীয় মারণাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা ফাঁড়ির দরজা ভেঙে ভেতরের কক্ষে ঢুকে পড়ে এবং আটক দুই আসামিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। ফাঁড়িতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দিতে গেলে হামলাকারীদের কোপ ও আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একাধিক সিসিটিভি ও সাধারণ ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ জনের এক দল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত রামদা ও চাপাতি উঁচিয়ে ফাঁড়ি ঘেরাও করে তাণ্ডব চালাচ্ছে। ভিডিওতে পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি এর আশপাশের অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনায় বেপরোয়া হামলার দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, আসামি ছিনিয়ে নিতেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল। হামলায় আমাদের দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ওসি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই সশস্ত্র হামলায় জড়িত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা এবং পূর্বে আটককৃতদের মাদক কারবারের অপরাধে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের জোর প্রস্তুতি চলছে।