শান্ত সাভার ও গাজীপুর, কাজে ফিরেছেন পোশাক শ্রমিকরা

গত কয়েক দিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে সাভার ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সকাল থেকেই নিজস্ব পরিবহন বা হেঁটে নিজ নিজ কর্মস্থলে পৌঁছে কাজে যোগ দিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা। শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকদের স্বাভাবিক উপস্থিতি দেখা গেছে।

সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল ও আশপাশের এলাকায় এদিন সকালে কোনো অপ্রীতিকর বা উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। গত কয়েক দিন আন্দোলন ও সংঘর্ষে হেমায়েতপুর এলাকা অশান্ত হয়ে উঠেছিলো। বুধবারও সেখানে পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, যানবাহন পোড়ানো এবং বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার রাতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও উলাইলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বিজিবির কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে হেমায়েতপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিজিবি টিমের বিশেষ টহল, নিবিড় নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, বেতন বাড়ানোর দাবিতে টানা এক সপ্তাহ আন্দোলন চলার পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেখানে বিভিন্ন কারখানায় শান্ত পরিবেশে শ্রমিকদের কাজে ফিরতে দেখা গেছে।

গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাইনবোর্ডসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সকাল থেকে কোথাও কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। সাভার ও গাজীপুর—দুই অঞ্চলের মহাসড়কগুলোতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করতে আজ মাঠে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের তত্ত্বাবধানে ১৩ প্লাটুন বিজিবির পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), আনসার ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।

বেশির ভাগ কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হলেও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কিছু কিছু স্থানে এখনো কয়েকটি কারখানা বন্ধ রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।