মেহেরপুরে ধর্ষণ দায়ের পিরোজপুর ইউপি সদস্য কলিম উদ্দিন কালুকে (৫১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছে আদালত। রোববার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আলী মাসুদ সেখ এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। রায়ে আরো উল্লেখ রয়েছে আসামীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাবাস ভোগ করতে হবে। আর, রায় শুনেই আদালতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ধর্ষক।
এছাড়াও রায়ে বলা হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী জেলা প্রশাসক আসামী কলিম উদ্দিন কালু'র স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রি করবেন। বিক্রয়লব্ধ ঐ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেবেন। পরে ঐ টাকা ভিকটিমকে প্রদান করবেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন কালু মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।
রায় শোনার পরই আসামী কলিম উদ্দিন কালু আদালত প্রাঙ্গণে অসূস্থ্য হয়ে পড়ে। তাকে নেওয়া হয় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এক প্রতিবন্ধী নারী রাতে খাবার খেয়ে ঘরে শুয়ে ছিলেন। আসামী কলিম উদ্দিন কালু ঐ নারীর ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ঐ প্রতিবন্ধী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঐ নারী চিৎকারে করলে পালিয়ে যায় কালু। যাওয়ার সময় বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকি দেয়।
২১ ডিসেম্বর ঐ প্রতিবন্ধী নারীর মা বাদি হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সময়র তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই খান মারুফুল ইসলাম আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
এছাড়াও ডিএনএ পরিক্ষার জন্য ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারী ঢাকার সিআইডিতে পাঠানো হয় ভিকটিমের পরিহিত কাপড় চোপড়। সংগ্রহ করা হয় আসামি ও ভিকটিমের ডিএনএ। ডিএনএ পরিক্ষায় ধর্ষর্ণের প্রমানও মেলে।
মামলাটিতে ১৩ জন সাক্ষী তাদের স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। মামলার সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়া বিজ্ঞ বিচারক এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।মামলাটিতে সরকারী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. মুস্তিাফিজুর রহমান তুহিন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, অ্যাড. পল্লব ভট্টাচার্য, অ্যাড. ইব্রাহমী শাহীন অ্যাড. এ.কে.এম শফিকুল আলম।
পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ইউপি সদস্য কলিম উদ্দিন কালু ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। এছাড়ও চলতি ইউপি সদস্য হওয়ায় নাানাভাবে মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি বাদিপক্ষের সাথে আপোষের চেষ্টা করেছেন। হুমকি প্রদান করে স্বাক্ষ্যিদের আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে বাধা প্রদান করেন। এ রায়ে ন্যায় বিচার প্রিতিষ্ঠত হলো।