দুবলার চরে যাচ্ছেন ১০ হাজার জেলে ও শুঁটকি ব্যবসায়ী

বছর ঘুরে আবারও শুরু হয়েছে সাগরদ্বীপ দুবলার চরের শুঁটকি উৎপাদন মৌসুম। বনবিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে শুক্রবার থেকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন  শুঁটকি পল্লীতে নৌ বহর নিয়ে যাত্রা শুরু করছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। 

দুর্গম চরে যেতে ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার জেলে, ব্যবসায়ী, বহদ্দার (চট্টগ্রামের মহাজন) ও দোকানি তাদের প্রস্তুতি শেষ করেছেন। সেখানে তারা নির্দিষ্ট চরগুলোতে মৌসুমের পাঁচ মাসের জন্য থাকা ও শুঁটকি সংরক্ষণের ঘর এবং শুঁটকি শুকানোর মাচা তৈরি করবেন।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখ মাহাবুব হাসান জানান, দেশের সামুদ্রিক শুঁটকি উৎপাদনের অন্যতম স্থান হচ্ছে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোল রেঞ্জের দুবলার চর। তিন নভেম্বর থেকে ৩১ মার্চ- এই পাঁচ মাস চলবে শুঁটকি উৎপাদন প্রক্রিয়া। বঙ্গোপসাগর থেকে ধরা লইট্টা, ছুরি, চিংড়ি, লাক্ষা, জাবা, পোয়া মাছ থেকে তৈরি শুঁটকি খুবই জনপ্রিয়। এখান থেকে উৎপাদিত এসব শুঁটকি চলে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আবার দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাছাই করা শুঁটকি বিদেশেও রপ্তানি হয়। এছাড়া জেলেদের জালে ধরা পড়া ছোট প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া ও জলজপ্রাণি (রাস বলা হয়) শুঁকিয়ে তা দিয়ে ফিশ মিল তৈরি করা হয়। 

তিনি জানান, এ বছর দুবলা জেলেপল্লীর টহল ফাঁড়ির আওতাধীন আলোরকোল, মাঝের কিল্লা, শেলা ও নারকেলবাড়িয়া এই চারটি চরে এক হাজার ৩০টি জেলে ও শুঁটকি সংরক্ষণের ঘর, ৬৩টি ডিপো ঘর, ৯৬টি দোকান ঘর তৈরির অনুমোতি দেওয়া হয়েছে। গত বছর এখাত থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এবছরও একই পরিমাণ রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় ধরণের কোনো দুর্যোগ না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।