ঝালকাঠিতে ছয় র্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে তৎকালীন কলেজছাত্র লিমন হত্যাচেষ্টার মামলা পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছে আদালত। লিমনের মায়ের নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।
বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতের বিচারক এএইচএম ইমরানুর রহমান এ আদেশ দেন।
এর আগে ছয় র্যাব সদস্যকে অব্যহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের পাঁচ ডিসেম্বর ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম নারাজি আবেদন দেন।
লিমনের মায়ের আইনজীবী জানান, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে বরিশাল র্যাব-৮ এর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধ অভিযান চালায়। এ সময় তৎকালীন কলেজছাত্র লিমন হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়। লিমনকে বাঁচাতে তার একটি পা কেটে ফেলেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় লিমনের মা বাদি হয়ে ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন সময় বরিশাল র্যাব-৮ এর ডিএডি লুৎফর রহমানসহ ছয় র্যাব সদস্যের নামে ঝালকাঠির আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি প্রথমে রাজাপুর থানার তৎকালীন এসআই আব্দুল হালিম তালুকদার তদন্ত করেন। তিনি ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবদন দাখিল করেন। লিমনের মা ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়ের করেন। আদালত রিভিশন মঞ্জুর করে পুনরায় মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে পিবিআই এর প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম ২০২২ সালর ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, লিমন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সত্য, তবে কারা তাকে গুলি করেছে তার কোনো সাক্ষী-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
পরে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম আদালতে নারাজি দেন।
লিমনের মায়ের দাবি, ছেলে সন্ত্রাসী ছিল না। একটি ভালো ছেলেকে র্যাব গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে। এ ঘটনার তিনি সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার দাবি করেন।