সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে মাঠের ধান কাটার শ্রমিকের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন চলতি মৌসুমের বোরো ধান চাষীরা। তাদের দাবি, দিনে ৮০০ টাকা মজুরি হাঁকলেও মিলছে না শ্রমিক।
কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে এই ফসল কেটে তুলতে শ্রমিকের অভাবে সমস্যায় পড়ছেন কৃষকরা।
চলতি মাস জুড়েই তীব্র তাপদাহে পুড়ছে সাতক্ষীরা। অসহনীয় গরমে নাকাল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। চড়া রোদে মাঠে কাজ করার শ্রমিক মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন বোরো ধানচাষিরা।
কৃষকরা বলছেন, দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাড়তি পারিশ্রমিক দিয়েই ধান কেটে ঘরে তুলছেন অনেকে। তাদের দাবি, উৎপাদন খরচ বাড়ায় এবার লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
এ বছর এরই মধ্যে তাপপ্রবাহ রেকর্ড গড়েছে। আগে দেশে সর্বোচ্চ ২৩ দিন টানা দাবদাহের রেকর্ড ছিলো। এ বছর তা এরই মধ্যে ২৭ দিন অতিক্রম করে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দেশে প্রায় ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পৌঁছেছে।
শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ ওঠেছে। টানা এই তাপ প্রবাহের কারণে সারাদেশে ‘হিট অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে এবং সেটি বাড়ানো হয়েছে।
সাতক্ষীরার এক কৃষক বলেন, তাপমাত্রা এত বেশি যে লোকজন মাছে কাজ করতে পারছে না। মাঠে ধান রেখে যাচ্ছে। ধার পেকে গেছে। ঝরে যাচ্ছে। মজুর না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছি। খুব সমস্যা।
আরেক কৃষক বলেন, দৈনিক ভিত্তিক কৃষি শ্রমিক না পাওয়ায় কষ্ট হচ্ছে। নিজেদেরই মাঠে কাজ করতে হচ্ছে।
এদিকে, তীব্র গরমে দুপুরে হলেই শহরের সড়কে তেমন একটা যানবাহন চোখে পড়ছে না। জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন রিকশা ও ভ্যানচালকরা। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া দোকানিরাও ঝাঁপ খুলছেন না।
এক ভ্যানচালক বলেন, প্রচণ্ড গরমে ভ্যান চালানো কঠিন। এরমধ্যে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কৃষি কর্মকর্তার দাবি, এ বছর সাতক্ষীরায় বোরো ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। কৃষকদের সমস্যা মোকাবিলায় পরামর্শও দিয়ে যাচ্ছেন তারা।
খামারবাড়ি অতিরিক্ত উপ-পরিচালক(শস্য) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, আমরা তাদের পরামর্শ দিয়েছি। তারা মধ্যরাত থেকে ধান কাটছে। এতে কিছুটা সহনশীল পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে। তারা কাজ করতে পারছেন। এখন পর্যন্ত মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ ধান উৎপাদন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই বছর সাতক্ষীরায় ৭৯ হাজার ৭৮৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।