সুন্দরবন পুড়ছে, আগুন নেভাতে আরো সময়

টানা কয়েকঘণ্টার চেষ্টায় সুন্দরবনের আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো গেলেও এখনো পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বনবিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। তবে আগুন ব্যাপক এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আগেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে বলে বলে করছেন পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। 

ফায়ার সার্ভিসের বাগেরহাটের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী রোববার বিকেলে একাত্তরকে বলেন, আগুন এখন আয়ত্তে আছে। তবে পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। 

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আমরবুনিয়ার ছিলা এলাকায় শনিবার আগুনের সূত্রপাত। রোববার সকাল সাতটা থেকে সমন্বিতভাবে শুরু হয় নেভানোর কাজ। বনরক্ষী ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আগুন নেভাতে যোগ দেয় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনের আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের খুলনা, বাগেরহাটের বিভিন্ন স্টেশন থেকে যোগ দেয় ১০টি ইউনিট। নৌবাহিনীর মোংলা ঘাঁটির একটি ফায়ার ফাইটিং টিমও সকালে কাজ শুরু করে। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে ছেটানো হয় পানি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পাশের ভোলা নদীতে পাইপ সংযোগ দিয়ে, সেখানকার পানি বনের ভেতরে আগুনে ঢালছেন। 

Sundorbon fire 2

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বাগেরহাটের উপপরিচালক মামুন আহমেদ বলেন, আগুন অল্প অল্প জ্বলছে এবং শুকনো পাতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে না।

শনিবার দুপুর নাগাদ আমরবুনিয়া এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখে বনকর্মীরা ছুটে গিয়ে নেভানোর চেষ্টা করে। সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় গ্রামবাসীও। তবে তাতে আগুন নেভানো যায়নি। সন্ধ্যায়ই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনরক্ষী ও থানা পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। তবে রাতের কাজ শুরু না করে তারা ফিরে যান।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম বলেন, নানা প্রতিকূলতায় শনিবার আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা যায়নি। তবে এদিন সকাল থেকেই শুরু হয়েছে। আগুন ব্যাপক এলাকা ছড়িয়ে যাওয়ার আগেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। 

Sundorbon fire 3

সুন্দরবনে প্রায়ই আগুন লাগে। গত ২২ বছরে অন্তত ২৫ বার সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা আগুনে পুড়েছে বলে এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি

এদিকে সুন্দরবনে কীভাবে আগুন লাগলো, কত এলাকাজুড়ে ছড়িয়েছে এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বনবিভাগ।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম জানিয়েছেন, কী কারণে বা কীভাবে আগুন লেগেছে তা এখনও বের করা যায়নি। তবে স্থানীয়রা একেকজন একেক তথ্য দিচ্ছে। সব তথ্যই আমলে নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) রানা দেবকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধার স্টেশন অফিসার মো. ওবায়দুর রহমান এবং ধানসাগর স্টেশন অফিসার মো. রবিউল ইসলাম।

আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে আগুন লাগার সঠিক কারণ বের করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিটি।