মা কী এমনও হয়!

কুষ্টিয়ায় আড়াই মাসের এক শিশু মায়ের কোল থেকে চুরির অভিযোগের পর পুলিশ ওই নবজাতকটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে উদঘাটন করেছে হত্যার রহস্যও, যা রীতিমতো গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। এমন ঘটনা আগে কেউ দেখেছে কি না তা নিয়েও সন্দেহ এলাকাবাসীর। তাদের মন্তব্য, মা কী এমনও হয়!

ঘটনাটি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া গ্রামের।

হত্যার শিকার শিশুটির নাম ইসরাফিল, বয়স আড়াই মাস। বাবা উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান। আর মায়ের নাম রেহেনা। ইসরাফিল ওই দম্পতির চতুর্থ সন্তান। তাদের ঘরে আরও তিন কন্যা সন্তান রয়েছে।

শুরুর কথা

১০ জুন সকালে গৃহিনী রেহেনা খাতুন আড়াই মাস বয়সী একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবা মোহন মণ্ডলের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওই রাতে শিশু ইসরাফিল, মা রেহেনা ও নানী রেনু খাতুন দরজা বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১০টার দিকে শিশুটি চুরি হয়েছে বলে দাবি করে চিৎকার করে ওঠেন রেহেনা। এসময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে খোঁজ করেন, কিন্তু পাওয়া যায়নি। 

পরের দিন ১১ জুন সকালে অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় শিশু চুরির মামলা করেন বাবা জিয়াউর রহমান। তিনি তখনও জানেন না শিশুটির সঙ্গে কী ঘটেছে।

মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজের প্রায় ৪২ ঘণ্টা পরে ১২ জুন বিকেলে নানাবাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরের বুড়ি মারা নামক বিল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মর্গে পাঠায়। 

পুলিশের তদন্ত ও সন্দেহ

এদিকে অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। শুরু থেকেই মা রেহেনা খাতুনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয় পুলিশের। দাফন শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রেহেনা খাতুন যে তথ্য জানান, তা শোনার পর স্তম্ভিত হয়ে যান তদন্তকারীও। 

কী ঘটেছিল শিশু ইসরাফিলের সঙ্গে

রেহেনার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সন্তানকে ঠিকঠাক বুকের দুধ পান করাতে পারতেন না। সেজন্য শিশুটি তাকে খুব বিরক্ত করতো। সেই বিরক্তি সইতে না পেরে সন্তানকে প্রথমে মাটিতে আঁছড়ে ফেলে এবং পরে গলাটিপে হত্যা করেন। পরে মরদেহ মাঠে ফেলে রেখে আসেন। এরপর ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে শিশু চুরির নাটক সাজান।  

সত্যিই কী ভূতে ধরেছিল রেহেনাকে

এমন লোমহর্ষক ঘটনার পরও রেহেনাকে রক্ষা করতে তৎপর রয়েছেন মা রেনু খাতুন বোন সাদিয়া। তাদের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই রেহেনার ওপর ‍ভূতের ভর আছে। তারা এও দাবি করেছেন, রেহেনা মানষিক রোগী! সেজন্য বেহুশভাবে নিজের সন্তানকে হত্যা করেছে। পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে এনে তাকে চিকিৎসা করাবেন বলেও জানিয়েছেন রেহেনার মা-বোন।

তবে এসব উদ্ভট দাবিকে অগ্রাহ্য করে, সন্তান হত্যার বিচার চেয়েছে বাবা জিয়াউর রহমান।

এমন ঘটনা ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরাও। তারাও এর দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

কী বলছে পুলিশ

কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকেই মা রেহেনার আচরণ সন্দেহজনক ছিল। সেজন্য দাফনের পর তাকে আটক করে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। পরে ১৪ জুন স্বেচ্ছায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে রেহেনা কারাগারে।