রাসেলস ভাইপার নিয়ে সারা দেশে আতঙ্কের মধ্যেই এবার বিষধর কালাচ সাপের কামড়ে কুষ্টিয়ায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত পাঁচ বছর বয়সী শিশুর নাম সোয়াদ ইসলাম। দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী চৌপাড়া গ্রামের সুখ চাঁদের ছেলে তিনি।
দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহি সাংবাদিকদের বলেন, বাবা ও মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা সোয়াদকে বুধবার ভোরে ছোবল দেয় কালাচ। এ সময় তার চিৎকার বাবা-মা ঘুম ভেঙে দেখেন পাশেই রয়েছে বিষধর কালাচ।
সঙ্গে সঙ্গে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে সাপটি মেরে ফেলেন সোয়াদের বাবা সুখ চাঁদ। এরপর ছেলেকে নিয়ে দ্রুত রওনা হন হাসপাতালে।
দংশন করা শিশুটিকে প্রথমে নেওয়া হয় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে চিকিৎসা না মেলায় পাঠানো হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে।
তবে সেখানেও বাঁচানো যায়নি সোয়াদকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল ১০টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন শিশু সোয়াদ।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, হাসপাতালে আসার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির চিকিৎসা শুরু হয়েছিলো। দেওয়া হয়েছিলো এন্টিভেনমও। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।
কালাচ অত্যন্ত বিষধর সাপ হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হয় বলে জানান তাপস কুমার সরকার। বলেন, শিশু সোয়াকে হাসপাতালে আনতে দেরি হওয়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশে যে কয়টি বিষধর সাপ রয়েছে তাদের মধ্যে কালাচ অন্যতম। এই সাপ কেউটে বা কালকেউটে নামেও পরিচিত।
প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় সাত হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মারা যান। এরমধ্যে কালাচ বা কেউটের ছোবলেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যান বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।