‘তোরা আমার আদরের ছেলেকে ফিরিয়ে দে’

‘সুমন বৃহস্পতিবার ফোন করে বাড়ির খোঁজখবর নিয়ে ছিল। আমাকে আর ওর বাবাকে সময় মতো খাবার খাওয়া কথা বলে। পরে কথা হবে বলে ফোন কেটে দিয়েছে। এরপর আর আমার সাথে কথা বলেনি। তোমার আমার আদরের ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দে’- কথাগুলো বলছিলেন খুলনায় কোটা আন্দোলনকে ঘিরে দুর্বৃত্তের লাঠিপেটায় নিহত পুলিশ সদস্য সুমন ঘরামীর মা গীতা ঘরামী।

শুক্রবার খুলনার গল্লামারী বাজারে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দুর্বৃত্তদের লাঠিপেটায় নিহত হন পুলিশ সদস্য সুমন। 

তার বাড়ি বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার কিসমত মালিপাটন গ্রামে। তিনি খুলনা পুলিশ লাইনসে কর্মরত ছিলেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা সুশীল ঘরামীর ছেলে সুমন ২০১২ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। ছেলের এই মৃতশোকে নির্বাক তিনি। শনিবার দুপুর পর্যন্তও জানতেন না ছেলে আর বেঁচে নেই।

সুমনে বড় বোন সুমনা ঘরামী জানান, বৃদ্ধ বাবা-মা দুইজনই অসুস্থ। ভাইয়ের মৃত্যুতে তাদের বাঁচিয়ে রাখা কঠিন।

সুমনের স্কুল পড়ুয়া ভাগ্নে অর্পন সমর্দার জানায়, গত বুধবার ডিউটিরত অবস্থায় মামা বুকে ইটের আঘাত পেয়েছিল। দিদাকে খবর দিলে তিনি খুলনা যাওয়া প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার আর যাওয়া হলো না। 

এদিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে সুমনের মরদেহবাহী গাড়ি বাড়িতে পৌঁছায়। 

এসময় শোকে মুষড়ে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। একনজর দেখতে ভিড় করেন বহু মানুষ। স্বজনরা জাননা, সুমনের মরদেহ বাড়িতে সমাহিত করা হবে। 

প্রতিবেশী সমর কৃষ্ণ ঘরামী, সাথী রায়, নিপুণ রায় এবং বন্ধু রাজীব হোসেন জানান, সুমন খুব ভালো মনের মানুষ ছিল। ছুটিতে বাড়িতে এসে স্বজন আর প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নিতেন। চাকরি থেকে অবসর যাওয়ার পর সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে থাকার স্বপ্ন দেখতেন সুমন। কিন্তু সমুনের সেই স্বপ্ন পুরন হলো না। এই হত্যার দ্রুত বিচার হোক।