পূর্ব সুন্দরবনে রেড অ্যালার্ট জারি হয়েছে। সীমিত করা হয়েছে বনরক্ষীদের ছুটিও। সাম্প্রতিক সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ড ও ঈদকে সামনে রেখে শিকারিদের হরিণ শিকার প্রতিরোধে সুন্দরবন বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির টেপারবিল ও ধানসাগর ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির শাপলার বিলের তেইশেরছিলায় দুই দফা আগুন লাগে। বনবিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের ৬ দিনের প্রচেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। আগুনে বনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পুড়ে গেছে প্রায় ৬ একর বনভূমির গাছপালা।
অপরদিকে, গত কিছুদিন ধরে সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়েছে। অনেক জায়গায় হরিণের মাংস উদ্ধার হয়েছে। ঈদের আগে সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ে গোপনে রাতের আঁধারে হরিণের মাংস বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে এসে মানুষজন হরিণের মাংস কিনে নিয়ে যায়।
ঈদকে সামনে রেখে চোরাশিকারীরা সুন্দরবনে হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকারে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ কারণে দস্যু ও শিকারিদের প্রতিরোধে সুন্দরবন বিভাগ রেড অ্যালার্ট জারিসহ বনরক্ষীদের ছুটি সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) রানা দেব বলেন, ঈদকে সামনে রেখে চোরাশিকারিদের ধরতে সুন্দরবনের সকল টহল ফাঁড়ি ও স্টেশনের বন কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের বিশেষ নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। বনরক্ষীরা তাদের টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করীম বলেন, সুন্দরবনে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সীমিত করা হয়েছে বনরক্ষীদের ছুটি। বিশেষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ছুটি দেয়া হবে না। ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছর চোরাশিকারি চক্র মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে একটি চক্র বনে আগুন ধরায়। এদের প্রতিরোধে বনরক্ষীদের বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।