ভালোবাসার টানে মেহেরপুরে এসে স্থানীয় এক কিশোরীর সঙ্গে বিয়ের উদ্যোগ নিলেও পরিচয় গোপন রেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন দুই চীনা নাগরিক।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরের দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমদহ ইউনিয়নের টেংরামারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর চীনে বাংলাদেশি নারী পাচার, অনলাইন প্রেমের ফাঁদ ও অবৈধ বিয়ে নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে গ্রামের মৃত লিটনের কন্যা মরিয়ম খাতুনের (১৫) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এক চীনা নাগরিক। সেই সূত্র ধরেই ওই ব্যক্তি তার বন্ধুকেসহ সরাসরি গ্রামে এসে মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরিয়ম লেখাপড়া করে না এবং সে বয়সে অপ্রাপ্তবয়স্ক।
চীনা নাগরিকদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মেয়েটির বয়স এবং বিদেশি নাগরিকদের উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলে এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার সাহেবপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। পারিবারিক সম্মতি ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হলেও চীনা নাগরিকরা তাতে রাজি হননি। তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন না করেই সেখান থেকে চলে যান।
অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ওই দুই চীনা নাগরিককে আটক বা পরিচয় সংরক্ষণ করেনি। পরে জানা যায়, তারা ‘চাকমা’ নাম ব্যবহার করে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের টিকিট কেটে ঢাকার উদ্দেশে এলাকা ছাড়েন।
সাহেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শফিক জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই দুই নাগরিককে দুপুর দুইটার বাসে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন।
তিনি বলেন, ওই চীনা নাগরিকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে বৈধভাবে বিয়ের উদ্যোগ নিতে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।