বেনাপোলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

বেনাপোল স্থলবন্দরের অনিয়ম ও চাঁদাবাজি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক যুগান্তরের বেনাপোল প্রতিনিধি কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক কামাল হোসেন এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের দুই সেপ্টেম্বর বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) শাহিদা শারমিন এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন, যা ১০ সেপ্টেম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

অভিযোগ রয়েছে, চার্জশিট দাখিলের পরও সংশ্লিষ্ট চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে বন্দরে চাঁদাবাজি শুরু করে। এর প্রতিবাদে গত ২০ জানুয়ারি দুপুরে বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে ব্যবসায়ী নেতারা বন্দরের চাঁদাবাজি ও দালালি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ব্যবসায়ী নেতাদের বক্তব্য ও অনুসন্ধানী তথ্য নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সাংবাদিক কামাল হোসেনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান মতি ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, বন্দরে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে এই প্রতিশোধমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে।

নামসর্বস্ব নিউজ পোর্টাল ও ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক আহম্মেদ বলেন, সাংবাদিক কামাল হোসেনের অভিযোগটি জিডিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

কামাল হোসেন গত এক যুগ ধরে যমুনা টেলিভিশন ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় কর্মরত আছেন। বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত।