বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট তীব্র বৈরী আবহাওয়ার জেরে সুন্দরবনে আশ্রয় নিয়ে শেষ রক্ষা হলো না জেলেদের। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালারচরের নারকেলবাড়িয়া ও কালামেয়া বনাঞ্চল থেকে সশস্ত্র বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’ হামলা চালিয়ে একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
রোববার ভোরের দিকে এই দুর্ধর্ষ অপহরণের ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে পড়লে প্রাণ বাঁচাতে জেলেদের ফিশিংবোটের বহর সুন্দরবনের নিরাপদ আশ্রয়ে ঢুকে পড়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরণখোলার এক জেলে মহাজন জানান, রোববার খুব ভোরে শ্যালারচরের কালামেয়া ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় নোঙর করা জেলে বহরে অতর্কিত হানা দেয় কুখ্যাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী।
সশস্ত্র দস্যুরা সাধারণ জেলেদের ওপর নির্বিচারে মারধর চালায় এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাবুল মাঝির মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলারসহ মোট পাঁচজন জেলেকে তুলে নিয়ে গভীর বনে গা ঢাকা দেয়।
অপহৃত জেলেরা সবাই বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের চারজন- জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৮), শিহাব হাওলাদার (৩৫), সাব্বির হাওলাদার (৩০) ও রিপন হাওলাদার (২৮) এবং উত্তর রাজাপুর গ্রামের জাকির হাওলাদার (৪০) রয়েছেন।
পূর্ব সুন্দরবনের শেলারচর ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাগরে টিকতে না পেরে জেলেরা শ্যালারচরের নারকেলবাড়িয়া ও কালামেয়া খালে ট্রলার নোঙর করে অবস্থান করছিলেন। দস্যুরা একটি ট্রলার থেকে ৩ জন এবং অন্য দুটি ট্রলার থেকে আরও ২ জন জেলেসহ মোট পাঁচজনকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
ঘটনার পর থেকে উপকূলীয় মৎস্যজীবী ও নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, জেলে অপহরণের খবর পাওয়া মাত্রই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। জিম্মি জেলেদের উদ্ধার এবং দস্যু বাহিনীকে দমনে বনবিভাগ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি চলছে।