বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তাদের আপাতত দলে ফেরানোর কোনো চিন্তাভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও দলের নেতা রাশেদ খান। তবে সাধারণ কর্মী-সমর্থক যাদের বিরুদ্ধে ভুল বোঝাবুঝি বা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ছিলো, ভুল স্বীকার করলে তাদের বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ড বিবেচনা করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলে ফিরতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যেসব দলীয় নেতাকর্মী ভুল করে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, তারা যদি ভুল স্বীকার করে ফিরতে চান তবে সেটি হাইকমান্ড বিবেচনা করবে। তবে যারা সরাসরি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছিলেন, তাদের বিষয়ে দল এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা চিন্তাভাবনা করেনি।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণার সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের ঘোষণার যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তারা মূলত আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক মাঠে ফেরানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এর আগে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন দলীয় নেতারা।
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য র্যালি ও পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।