ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে শ্রেণীকক্ষে টানা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেনের তথ্যমতে, গত ১৭ই আগস্ট সোমবার ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলম তাকে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য একটি চিরকুট লিখে দেন। পরে শিক্ষার্থী ওয়াশরুমে গেলে শিক্ষকও সেখানে উপস্থিত হন এবং তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করেন।
এ সময় ভয়ে মেয়েটি দৌড়ে স্কুল থেকে বেরিয়ে বাড়িতে চলে যায় এবং কান্না জড়ানো কণ্ঠে পরিবারকে বিষয়টি খুলে বলে। সোমবার স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ায় ওই দিন আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরদিন সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলম বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে স্থানীয় সচেতন গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে তাকে শ্রেণীকক্ষে অবরুদ্ধ করেন। সকাল ১১টা থেকে বেলা ৪টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটকে রাখে।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেল ৪টায় তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং অবরুদ্ধ করে রাখার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধরও করেছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্ত্রীসহ দুজনের যাবজ্জীবন, রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে এজলাসে বিক্ষোভ
হবিগঞ্জে আটকের ২১ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্ত মাহদী