প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই শিক্ষককে বাসায় পৌঁছে দিল পুলিশ!

শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে আটক হওয়া কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের স্কুলশিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন সরকারের নির্বাহী নির্দেশে মুক্তি পেয়ে সসম্মানে নিজের বাড়ি ফিরেছেন।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকা থেকে তাকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। পরবর্তীতে বিষয়টি জানার সাথে সাথেই প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন উক্ত শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহদী আমিন জানিয়েছেন, সেই শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এ সময় দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। তিনি দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত সামছুদ্দিন আহমেদের ছেলে। গণমাধ্যম তার আটকের খবর প্রকাশের পর শুরু হয় সমালোচনা।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন লেখেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এক স্কুল শিক্ষকের কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অধিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মাহ্দী আমিন জানান, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তিনি লেখেন, বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন, শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দিতে।

মাহদী আমিন লেখেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন মতের ভিন্নতা থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কারও মতের সাথে ব্যক্তিগতভাবে একমত না হলেও মতপ্রকাশের সেই মৌলিক অধিকারকে সম্মান দেখানোই হলো গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আরও মনে করেন ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতিই একটি সমাজকে শক্তিশালী করে তুলতে পারে। এই বিশ্বাস থেকেই প্রধানমন্ত্রী ওই শিক্ষককে সসম্মানে মুক্ত করার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে পুলিশ তাকে নিরাপদে নিজ বাসায় পৌঁছে দেয়।

রাজনৈতিক সহনশীলতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার এমন নজির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।