জামালপুর-৫ আসনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুরে অভিযোগ করেছেন শাহবাজপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের কর্মী সমর্থকরা। হামলায় ইউপি সদস্যসহ কমপক্ষে পাঁচ জন আহত হয়েছে। বুধবার বিকালে সদরের শাহবাজপুর দক্ষিণ কৈডোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি সদস্য নিয়ামত আলী, তাঁর ছেলে জাকির হোসেন ফকির, বেলাল হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা ও মারুফ হোসেনকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় নৌকার প্রচার কেন্দ্রে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহনাজ ফেরদৌস ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহরাব হোসাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহনাজ সাংবাদিকদের বলেন, নৌকা ও ঈগলের সমর্থকদের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নেয়ামত আলী জানান, বুধাবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এক বিএনপির ক্যাডারের নেতৃত্বে ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা এই হামলা করে। হামলায় আহত হন আওয়ামী লীগ নেতা নেয়ামত আলী ও মাসুদসহ কমপক্ষে চারজন। আহতদের সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে মাসুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, বুধবার দুপুরের পর নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে দক্ষিণ কৈডোলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠের প্রচার কেন্দ্রে ফেরার পথে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম রেজনুর সমর্থক সাইফুল ও সাত্তার আওয়ামী লীগ কর্মীর হাত থেকে হ্যান্ড মাইক জোর করে কেড়ে নেয়।
পরে মাইক ফেরত চাইলে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি সদস্য নিয়ামত আলী ও তার ছেলে জাকির হোসেন ফকিরের উপর হামলা চালায় সাইফুল ও সাত্তারের নেতৃত্বে ঈগল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় তাদের বাঁচাতে মাসুদ রানা ও মারুফ হোসেন এগিয়ে এলে তাদের উপরও হামলা করে সন্ত্রাসীরা। পরে নৌকা প্রতীকের প্রচার কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।
এ ঘটনার জন্য সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান স্বপন স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম রেজনুর সমর্থকদের দায়ি করেছে।
তবে পাল্টা অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম রেজনু বলেন, নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে ঈগল প্রতীকের সমর্থকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে নৌকার সমর্থকরা। ইতোমধ্যে ঈগল প্রতীকের কয়েকটি প্রচার কেন্দ্রে হামলা-ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুট করেছে নৌকার সমর্থকরা। পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে ঈগলের সমর্থকদের ফাঁসানোর চক্রান্ত হচ্ছে।